পাবনার ফরিদপুরে সরকারি জমি দখল, বিক্রি ও রহস্যময় মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি : পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় বড়াল নদীর তীরবর্তী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ হলেও তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াল নদীর তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি বসতবাড়ি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। পরে অনেকেই জানতে পারেন, তারা যে জমি কিনেছেন বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে সরকারি সম্পত্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বৈধ মালিকানা রয়েছে বিশ্বাস করেই তারা জমি কিনেছিলেন। কিন্তু পরে জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি বলে জানতে পেরে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল ও বিক্রির ঘটনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ধীরে ধীরে সেখানে স্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়রা ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের একটি মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ওই দিন গভীর রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় মাটিচাপায় পড়ে বহাত সরদারের ছেলে মাজন সরদারের মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন আহত হন। তবে সে সময় ঘটনাটিকে পারিবারিক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং প্রয়োজনে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।

সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা জেলে সুজন ওরফে ‘মাটি সুজন’ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা আমি বিক্রি করিনি। এলাকায় এসে মানুষের সঙ্গে কথা বললে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা স্ট্যাম্প করে বিক্রি করেছে রেজাউল নামের একজন। এখন সেই দায় আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা ছিলেন না।

অন্যদিকে ফরিদপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ডেমরা পাউবো শাখা) রাজীব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির ওপর নতুন ঘর নির্মাণের বিষয়টি দেখা গেছে। এছাড়া ওই এলাকায় ৫০টির বেশি বসতবাড়ি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মামলা করা হয়েছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নতুন অভিযোগের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি জমিটি সরকারি সম্পত্তি হয় এবং এর আগে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে বছরের পর বছর কীভাবে সেখানে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি গড়ে উঠল। তারা সরকারি জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।