সংবাদদাতা: সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও পাবনা সদর উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম। তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করছেন। তবে বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
আদালত ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি ফৌজদারি মামলায় গত ৩ জুন জামিন নামঞ্জুর হলে জহুরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ৯ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর স্বাক্ষরিত আদেশে তাঁকে ৩ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বরখাস্তের পরও তিনি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর আলম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন লঙ্ঘন করে তাঁকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা রয়েছে।
বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ে যাওয়া ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করে জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অনুমতিতেই তিনি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিতেই ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জেনেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার অপু বলেন, ‘তাঁকে তো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে গিয়ে বিনা বেতনে কাজ করলে সমস্যা কোথায়?’ তবে চাকরি বিধিমালায় এ ধরনের অনুমতির সুযোগ আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ফোন কেটে দেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, সাময়িক বরখাস্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। কেউ বিধিবহির্ভূতভাবে এমন অনুমতি দিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





