পাবনায় জ্বালানি উত্তোলন বন্ধের হুমকি, পাম্প মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ

সংবাদদাতাঃ পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের একাধিক পেট্রোল পাম্প মালিকের অভিযোগ, সমিতির নামে নতুন সদস্য ফি ও বার্ষিক চাঁদা আদায়ের শর্ত আরোপ করে বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পাম্প মালিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, লালপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক বিমল কুমার, ঈশ্বরদীর মন ফিলিং স্টেশনের মালিক অপু এবং কাশিনাথপুরের ফাতেমা সিন্ডিকেটের মালিক শফিকুল আলম টিটুলসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জানানো হয়, নতুন করে সদস্য ফি ও বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ না করলে বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পেট্রোল পাম্প পরিচালনার অনুমোদন দেয় বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট পেট্রোলিয়াম কোম্পানি। সেখানে কোনো সমিতির সদস্যপদ বা চাঁদা প্রদানের বিষয়কে জ্বালানি উত্তোলনের পূর্বশর্ত হিসেবে আরোপ করার সুযোগ নেই। ফলে এমন সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক ও ব্যবসাবিরোধী বলে মনে করছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, উত্তরাঞ্চল পেট্রোল পাম্প ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর মালিক সমিতির পূর্ববর্তী কমিটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশের মাধ্যমে স্থগিত হওয়ার পরও ওই কমিটির সভাপতি রতন সাহেবের নির্দেশে বাঘাবাড়ি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সোহান নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন পাম্প মালিককে নতুন সদস্য হওয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং বার্ষিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা প্রদানের কথা জানান। অন্যথায় তেল উত্তোলনে জটিলতা সৃষ্টি হবে বলেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১২ জুলাই বাঘাবাড়ি ঘাটে পাবনা জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি ইনসাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মন্ত্রীসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন পাম্প মালিক সংশ্লিষ্ট অয়েল ডিপো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা বা চাঁদার চাপ প্রয়োগ বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আবুল আহসান খান রিয়ন বলেন, সমিতির মূল দায়িত্ব সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। কোনোভাবেই পাম্প মালিকদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সমিতির উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে সাধারণ জনগণ ভোগান্তিতে পড়বে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রতন সাহেব, সোহান কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।