বেড়ায় ৪৭৯ শিক্ষার্থীর জন্য টয়লেট মাত্র ৪টি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

বেড়ায় ৪৭৯ শিক্ষার্থীর জন্য টয়লেট মাত্র ৪টি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

বেড়া প্রতিনিধি :পাবনার বেড়া উপজেলার হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪৭৯ জন। তাদের জন্য টয়লেট আছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে দুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে দুটি ব্যবহার করা যায়, সেগুলোও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো পানি ও সাবানও পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনের সময় টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শুধু হাতিগাড়া বিদ্যালয় নয়, বেড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা বা ওয়াশ (WASH) ব্যবস্থায় কমবেশি ঘাটতি রয়েছে। কোথাও শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেট কম, কোথাও আবার টয়লেট থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেক বিদ্যালয়ে নেই আলাদা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১২টি। এসব বিদ্যালয়ের বিভিন্নটিতে অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় প্রকট সমস্যা রয়েছে।

বেড়া পৌরসভার হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ১৯১ জন এবং মেয়ে ২৮৮ জন। তাদের জন্য রয়েছে চারটি পুরোনো টয়লেট। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনেক সময় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ে আলাদা কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীও নেই।
২০১২–১৩ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিদ্যালয়টিতে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে সেটি এখন পরিত্যক্ত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েততুল্লাহ বলেন, আলাদা পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় টয়লেট পরিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেট কম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সমস্যা হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীম ও আবদুল্লাহ জানায়, টয়লেটে প্রায়ই দুর্গন্ধ থাকে। অনেক সময় পানি ও সাবানও পাওয়া যায় না। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় একজন ব্যবহার করলে অন্যদের অপেক্ষা করতে হয়।

বেড়ার সব বিদ্যালয়ে অবশ্য টয়লেটের অবস্থা একই রকম নয়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে টয়লেট তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন থাকলেও শিক্ষার্থীর তুলনায় সংখ্যা কম।
রাক সাফূল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩৮৪ জন। তাদের জন্য টয়লেট রয়েছে তিনটি—ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেট কম হওয়ায় বিদ্যমান টয়লেটগুলো সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে টয়লেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়ে শুধু টয়লেট নির্মাণ করাই যথেষ্ট নয়। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা এবং হাত ধোয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিভাবক ওয়াসিম, সবুজ ও মমিন বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যালয়ের স্যানিটেশন ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় কিছু বিদ্যালয়ে টয়লেটের সংখ্যা কম—এটি সত্য। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলার ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবনের আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে টয়লেটসহ অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধান হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজনের অংশ। তাই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান টয়লেটগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাও জরুরি।