বেড়ায় নকল দুধের কারখানায় অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা

বেড়ায় নকল দুধের কারখানায় অভিযান, ১ লাখ টাকা জরিমানা

বেড়া প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও দুধ তৈরির ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় পলি ঘোষ নামের এক নারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাঁর স্বামী উত্তম ঘোষ পালিয়ে যান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পেঁচাকোলা ঘাট এলাকায় উত্তম ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। বেড়া মডেল থানার পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির ওপর নজরদারি শুরু করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পরে রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে একটি বড় ডেগে সংরক্ষণ করা বিপুল পরিমাণ নকল দুধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া নকল দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত পাম অয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেকচি ক্রিম, ফ্যাট তোলা দুধ ও একটি ব্লেন্ডার মেশিন জব্দ করা হয়।

অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে উত্তম ঘোষ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষকে সেখানে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ও তাঁর স্বামী এসব উপকরণ ব্যবহার করে নিয়মিত নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন।

পরে জব্দ করা আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য ও পলি ঘোষের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। এ ধরনের দুধ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অভিযুক্ত নারী অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়ির বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে কারাদণ্ডের পরিবর্তে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান শেষে জব্দ করা নকল দুধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপকরণ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।