সংবাদদাতা: বিষ প্রয়োগে তিনটি কুকুর হত্যার ঘটনায় কুকুর মালিক থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারনে মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কুকুর মালিকের।
এদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দাবী করেছেন, মামলার শর্তাবলী পুরন না হওয়ায় মামলা নেয়া সম্ভব হয়নি। তারা শর্তপূরণ করে আসলেই মামলা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে একজন পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন। সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কুকুর হত্যাকারীকে সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খাদ্যে বিষপ্রয়োগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পাবনা শহরতলীর কাচারীপাড়ার কদমতলায় তিনটি কুকুর হত্যা করে। কুকুরের মালিক হারুনর রশিদ। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাচারীপাড়া মহল্লার মৃত হাতেম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
থানায় লিখিত এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারী সকালে হারুনর রশিদ তার পোষা তিনটি কুকুরের কান্নার আওয়াজ পান। দ্রুত বাসার সামনে এসে দেখতে পান তার পোষা তিনটি কুকুর মাটিতে লুটে ছটফট করছে। কুকুরের এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এসএ মামুন কে ঘটনাস্থলে আনা হয়৷ পশু চিকিৎসক কুকুরে শারীরিক লক্ষণ ও অবস্থা দেখে নিশ্চিত হন কুকুরগুলোকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর চিকিৎসক কুকুরগুলোর বিষক্রিয়া মুক্ত করতে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটায় ২ টি কুকুর মারা যায়। একইদিন দুপুর দেড়টার দিকে আরেকটি কুকুর মারা যায়।
কুকুর মালিক হারুনর রশিদ বলেন, পাবনার ঈশ্বরদী ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কুকুর হত্যার ঘটনায় আইনগত সহায়তা পেয়েছি। আমরা পশুপ্রাণী নিয়ে কাজ করছি। থানা মামলা না নেয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা চাই কুকুর হত্যাকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কান্নাজড়িত কন্ঠে কুকুর মালিক হারুনর রশিদ বলেন, কুকুর বলেই আমি কুকুরদের সেভাবে দেখিনা। ওরা ছিল আমার আদরের। আমাকে দেখলেই ওরা ছুটে আসতো, ওদের দেখে আমার ভালো লাগতো।
প্রতিবেশি নাসিমা খাতুন ও ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কুকুর ভক্ত কমই দেখতে পাই। আমরা পথে ঘাটে কুকুর বিড়াল দেখলে বিরক্ত হই। কিন্তু যেখানে সেখানে কুকুর বা বিড়াল দেখলে কাছে ডেকে ছোট্ট শিশুদের মতো আদর বুলিয়ে দেন কুকুর প্রেমী হারুন। পোষা বা পথ কুকুর বিড়ালদের আদর যত্মের কমতি নেই তার কাছে।
তারা বলেন, কুকুরগুলো হারুন পথ চললে তার পিছু পিছু থাকতো। দেখতে ভালোই লাগতো। কারন মানুষ পোষ মানে না অনেক সময়। কিন্তু পশু প্রাণী যে পোষ মানে সেটা হারুন বা তার কুকুরগুলো উদাহরণ।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণিকল্যান কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ বলেন, মানুষ দিনদিন নির্মম হয়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীতে আলোচিত ৮ টি কুকুর ছানা হত্যা ও পাবিপ্রবিতে কুকুর হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পাবনা শহরে এক সাথে পোষা তিনটি কুকুর হত্যা সত্যিই কষ্টদায়ক। আমিও চাই মানুষের পরিবর্তন আসুক আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে।






