পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের আনন্দ মিছিল

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের আনন্দ মিছিল

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি: রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা হলের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে এই মিছিল করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার”, “ইসলামি ছাত্রশিবির জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও শিবিরের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতকে সম্মান করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এখনো ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করিনি। কিন্তু গতকাল রাতে শিবির দলীয় স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর শিবির দলীয় স্লোগানে মিছিল শুরু করেছে। এর আগেও তারা বিভিন্ন ইস্যুতে বহিরাগতদের এনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করিয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছি প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি তুষার মাহমুদ বলেন, “জকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়লাভের পর আবেগের বশবর্তী হয়ে আমাদের কিছু জনশক্তি দলীয় স্লোগান দিয়েছে। আমরা বিষয়টি লক্ষ্য করেছি এবং খুব শিগগিরই যারা এ ধরনের স্লোগান দিয়েছে, তাদেরকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি কেবল কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ। বাস্তবে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আমাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কাজ না হয়, সে জন্য  নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয়টি যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এই মুহূর্তে আমি ক্যাম্পাসে নেই। শনিবার ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *