সংবাদদাতাঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘন করে বহনযোগ্য সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস ভরে বিক্রির একটি ভয়ংকর ও অবৈধ কারবারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামে অবস্থিত আল-মদিনা অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও কার্যকর কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যানবাহনে গ্যাস সরবরাহের অনুমতি থাকলেও স্টেশনটি নিয়মিতভাবে পাইকারি ও খুচরাভাবে বিভিন্ন কোম্পানির বহনযোগ্য সিলিন্ডারে নিজেদের রিজার্ভার থেকে এলপিজি গ্যাস ভর্তি করে বিক্রি করছে। এ প্রক্রিয়াটি শুধু অবৈধই নয়, যেকোনো সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের মাধ্যমে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহে নিয়োজিত এলপিজি বিতরণ স্টেশন থেকে মোটরযান বা স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনের সঙ্গে সংযুক্ত জ্বালানি ধারণ পাত্র ব্যতীত অন্য কোনো বহনযোগ্য পাত্রে এলপিজি ভর্তি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্টেশনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, শুধু যানবাহনে গ্যাস ভর্তি করে ফিলিং সেন্টার চালানো কঠিন হয়ে গেছে তাই প্রতিদিন যানবাহনের পাশাপাশি সিলিন্ডারেও গ্যাস ভর্তি করা হয়।
গ্যাস নিতে আসা উকিল উদ্দিন, শোয়েব আলীসহ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে একটি সিলিন্ডার কিনতে যেখানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা লাগে, সেখানে এই ফিলিং স্টেশন থেকে ৬০০ টাকায় ১০ লিটার গ্যাস পাওয়া যায়। তবে এভাবে গ্যাস নেওয়া যে অবৈধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তা তারা জানতেন না বলেও জানান।
অভিযোগ রয়েছে, আল-মদিনা অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মালিক আলমগীর হোসেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্র গুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে আল-মদিনা অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মালিক আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “অবৈধ হলে কী হয়েছে, আমার ক্ষমতা আছে এ ভাবেই ব্যবসা চালাবো। পারলে নিউজ করেন, আমিও আপনাদের দেখে নেব।
পাবনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মো: শারফুল আহসান ভুঞা বলেন, এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করতে পারেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






