সংবাদদাতাঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার দাপটে মৌ-বাক্স থেকে বের হতে পারছে না মৌমাছি। ফলে থমকে গেছে মধু উৎপাদন। শীতের প্রকোপ থেকে মৌমাছি বাঁচাতে মৌ-বাক্সগুলো পলিথিন ও চটের ছালা দিয়ে ঢেকে রেখেছেন খামারিরা।
সরেজমিনে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ থাকলেও মৌমাছিদের গুঞ্জন নেই। তীব্র শীতের হাত থেকে মৌমাছি রক্ষায় প্রতিটি বাক্স মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও কাপড়ে। বাক্সের ভেতরে যাতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে না পারে, সেই চেষ্টা করছেন খামারিরা। তবে রোদ না থাকায় মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স থেকে বের হতে পারছে না।
খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের মৌ-খামারি রমজান, গোলাম ও সোহাগ জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধু উৎপাদন বন্ধ থাকবে। তারা জানান, ঠান্ডায় মৌমাছিরা খাবার না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি বেশি দিন স্থায়ী হলে মৌমাছি মারা যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাক্সে জমে থাকা মধু সংগ্রহ না করে মৌমাছিদের খাবার হিসেবেই রেখে দেওয়া হয়েছে।
খামারিরা আরও জানান, গত এক মাসে তারা দুইবার মধু সংগ্রহ করেছেন। প্রথমবার ৮ মণ ও দ্বিতীয়বার ১৫ মণ মধু পাওয়া গিয়েছিল। আশা ছিল আগামী শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) ২০ মণের বেশি মধু মিলবে, কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সেই সম্ভাবনা আর নেই।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে মধু উৎপাদন শুরু হয় এবং তা চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে ভাঙ্গুড়ায় ১১২ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১১ টন। এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ৩১২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শারমিন জাহান বলেন, ভাঙ্গুড়ায় প্রতি বছর সরিষার আবাদ বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মধু উৎপাদনও। তবে সরিষার ফলন ও মধু উৎপাদনের লাভ-লোকসান অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ মৌ-খামারিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






