জীবনযুদ্ধে ৫৩ বছর নিঃশব্দ পার করলেন ভাঙ্গুড়ার ‘কাশেম মেকার

জীবনযুদ্ধে ৫৩ বছর নিঃশব্দ পার করলেন ভাঙ্গুড়ার ‘কাশেম মেকার

সংবাদদাতাঃ ১৯৬৮ সালের কথা। পিতার স্বপ্ন ছিলো আদরের সন্তান পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। সে উদ্দেশ্য নিয়েই ছেলেকে ভর্তি করে দেন স্থানীয় এক মাদ্রাসায়। কিন্তু, দারিদ্র্যর কারণে পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্কুলের গণ্ডি না পেরোতেই শুরু হয় জীবিকার লড়াই। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থাতেই শুরু হয় সাইকেল মেরামতের কাজ। সংসারের প্রয়োজনে ছোট বয়সেই কাজে লেগে যেতে হয়। সেই সময় থেকে আর ক্লাসে ফেরা হয়নি।

 

সেই শিশু মো. তারিকুল ইসলাম কাশেমের বয়স এখন ৬৪ বছর। তিনি পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের চৌবাড়ীয়া মধ্যপাড়ার মৃত. নইমুদ্দিন খানের ছেলে। সবার কাছে তিনি এখন ‘কাশেম মেকার’ হিসেবেই পরিচিত। জীবন-জীবিকার তাগিদে নিখুঁত দক্ষতায় দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে সাইকেল-ভ্যান মেরামতের পেশায় জরিত।

 

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের জিগাতলা এলাকায় একটি ভাড়া দোকানে ভ্যান, বাইসাইকেল, রিকশা মেরামতের কাজ করে জীবন চলে তার। কাশেমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। একমাত্র মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা পৃথক থাকেন। এখন পরিবারের সদস্য বলতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী।

 

জানা যায়, কাশেমের সাইকেল মেকার হওয়ার কথা ছিল না। পড়ালেখা শিখে পিতার লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তিনি এখন সাইকেল মেকার! অবশ্য এ জন্য তাঁর কোন দুঃখ নেই। উপজেলার নামকরা সাইকেল মেকার তার উস্তাদ শ্রী হরেন্দ্রনাথ রায়ের কাছেই তিনি শিখেছেন এ কাজ।

 

পরে একটি ভাড়া ঘরে নিজেই কাজ শুরু করেন। তিন পুরুষের সাইকেল মেরামত করে আসছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কাজ শিখেছেন এমন কেউই আর বেঁচে নেই। তিনিই এলাকার প্রবীণ সাইকেল মেকার। তাঁর কাছ থেকে অনেকেই এ কাজ শিখে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

 

একান্ত আলাপচারিতায় তারিকুল ইসলাম কাশেম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমার কাজের একমাত্র প্রশংসার দাবিদার মহান আল্লাহ তায়ালা। বাকিটুকু আমার স্মৃতি ও অভ্যাসের ফল। আমার হাত আর মন একত্রে কাজ করে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাইসাইকেল ও ভ্যান মেরামত করে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনমতে চলছে সংসার। এই জীবন তবু চলে যাচ্ছে। বয়স বাড়ছে, হয়তো একসময় আর কাজ করা সম্ভব হবে না। এই কাজ আর আল্লাহর গুণগাণ করেই বাকিটা জীবন কাটাতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *