পাবনায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

পাবনায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

সংবাদদাতাঃ দেশের অন্যান্য স্থানের মতো পাবনা জেলাতেও তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে বন্ধ রয়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম।

 

বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের এমন কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ সচেতন মহল। তারা বলছেন, শিশু শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষকদের দাবি আদায়ের কৌশলটি ন্যাক্কারজনক।

 

সদর উপজেলার ভাঁজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসেছেন কিন্তু, ক্লাসে যাননি। তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের যত্রতত্র খেলাধুলা করতে দেখা গেছে।

 

স্কুলটির সহকারী শিক্ষক সাইদ উল ইসলাম বলেন, “তিন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।”

 

পূর্ব রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, “এখন আমাদের কেন্দ্রীয় সংগঠন যে কর্মসূচি দিয়েছে, আমরা সেটা পালন করছি। কারণ আমাদের দাবিগুলো দীর্ঘবছর ধরে মানা হচ্ছে না। দাবিগুলো হলো- সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।”

 

এদিকে, বার্ষিক পরীক্ষার সামনে হঠাৎ করে এই আন্দোলন জোরদার করে শিক্ষকরা অমানবিক কাজ করছেন বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অভিভাবকসহ সচেতন মহল।

 

পাবনা সদরের মালিগাছা সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, “দাবি আদায়ে সারা বছর দেশে আন্দোলন একের পর এক লেগেই থাকে। শিক্ষকরা যখন আমাদের সন্তানদের জিম্মি করে তাদের লেখাপড়া নষ্ট করে আন্দোলনে নেমেছেন তখন হতাশ হওয়া ছাড়া কী করার আছে।”

 

আরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আরিফুল ইসলাম বলেন, “কিছুদিন পরই সন্তানের বার্ষিক পরীক্ষ। এ সময়ে এসে কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকদের মোটেই ঠিক নয়। তারা পরীক্ষা শেষ করে তারপর করতে পারতেন। আমাদের সন্তানদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা দেখবে কে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের কর্মসূচি স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

 

পাবনা সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি ও নিয়ামতুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিছুর রহমান হীরা বলেন, “আমরাও তো অসহায়। আমরা চাই না কোমলমতী শিশুদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে। গত ৮ নভেম্বরের শাহবাগের আন্দোলনে আমাদের দুই শতাধিক শিক্ষক আহত হন। আমাদের এক বোন মারা যান। সরকার আন্তরিকতা দেখিয়ে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। গত ১৫ দিনে তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। তাই আমাদের ১১টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঐক্যমতের ভিত্তিতে সারা দেশে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবে।”

 

পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল কবীর বলেন, “একজন সরকারি কর্মককর্তা বা কর্মচারী হয়ে কি আমরা এটা করতে পারি বলেন? এটা তো ঠিক না। বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা সামনে। ইতোমধ্যে রুটিন দেওয়া হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পরীক্ষা। এখন তারা এটারই সুযোগ নিচ্ছেন। আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি, কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার জন্য। তারা যদি না মানে তাহলে সরকার যেভাবে ব্যবস্থা নিতে বলে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব।”

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, পাবনা জেলায় ১ হাজার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *