পাবনার বেড়া উপজেলার পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় ১০ দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ

পাবনার বেড়া উপজেলার পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় ১০ দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ

বিবৃতি প্রতিবেদক: পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা গ্রামে কাগেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত একটি পাখির অভয়াশ্রম দখল ও ধ্বংসের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা সংগঠন লইয়ারস সোসাইটি ফর ল এর পক্ষ থেকে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাবনা সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও, পাবনার জেলা প্রশাসকসহ মোট ১০ জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ প্রদান করেন অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন ও অ্যাডভোকেট মেসবাউল ইসলাম আসিফ।

কৈটোলা গ্রামের প্রয়াত স্কুল শিক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমী পাখিবন্ধু আকাশকলি দাস তার পৈতৃক ভিটায় পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলেছিলেন। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজার্ভেশন–২০২৪’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

পরিবেশবাদী সংগঠন আইইউসিএন-এর সহযোগিতায় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্প (ডব্লিউবিআরপি) এর আওতায় বাড়িটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পাখির অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশব্যাপী একটি অনুকরণীয় পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

তবে গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ সালে আকাশকলি দাস অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তার মৃত্যুর পর প্রতিবেশী অসিত ঘোষ, অসীম ঘোষ ও মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যবসায়ী দাবি করেন—মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আকাশকলি দাস দানপত্র বা বিক্রয়মূল্যে তাদের কাছে অভয়াশ্রমের দখল হস্তান্তর করেছেন। অথচ এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকেই কথিত দখলদাররা অভয়াশ্রম এলাকায় বৃক্ষ নিধন ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পাখিদের আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আকাশকলি দাস নিজের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে বহু কষ্টে এই অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছিলেন। তাদের ভাষ্য, “মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তিনি তার জীবনের স্বপ্নের এই অভয়াশ্রম বিক্রি করে দেবেন—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।” জীবদ্দশায় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও অভয়াশ্রম দখলের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন আকাশকলি দাস।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মেসবাউল ইসলাম আসিফ বলেন, “আকাশকলি দাসের মৃত্যুর পর একটি চক্র বেআইনিভাবে পাখিদের অভয়াশ্রম দখল করে গাছ কেটে ফেলছে ও আবাসস্থল ধ্বংস করছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ ও অভয়াশ্রম রক্ষার দাবিতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি।”

পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে একটি স্বীকৃত পাখির অভয়াশ্রম চিরতরে হারিয়ে যাবে, যা দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *