বিশেষ সংবাদদাতাঃ পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক সময় ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দারিদ্র্যের কারণে অসুস্থ হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে পারতেন না তারা। সেই চিত্র এখন বদলেছে। ‘ফ্রেন্ডশিপ মোবাইল হাসপাতাল বাংলাদেশ-৩’-এর মাধ্যমে এখন চরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা। স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চরবাসী।
চরপেঁচাকোলা এলাকার বাসিন্দা রহিমা খাতুন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে অসুস্থ হলে আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া উপায় ছিল না। এখন ডাক্তাররা নিজেরাই আমাদের কাছে আসেন, ভালো করে দেখে ওষুধ দেন।’
বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ কর্মসূচির আওতায় এই ভাসমান হাসপাতালটি ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করে। বেড়া এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তিন মাস অন্তর ঘুরে ঘুরে এটি সেবা দেয়। মোট ২২ জনের একটি দল এখানে নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন প্যারামেডিকস, ৪ জন টেকনিশিয়ান, ১ জন ফার্মাসিস্ট এবং নৌযান চালকসহ অন্যান্য কর্মী।
চরাঞ্চলের এই হাসপাতালে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল অনেক সমস্যার প্রাথমিক সমাধান মিলছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও পেটের সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী পরামর্শ এবং শিশুদের পুষ্টি ও টিকাদানসংক্রান্ত গাইডলাইন মেলে এখানে।
দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, ছোটখাটো অস্ত্রোপচার, এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি নামমাত্র খরচে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা হয় এখানে।স্থানীয়রা বলছেন, চরাঞ্চলের জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি না থাকলে অনেকেই চিকিৎসার বাইরে থেকে যেত। তাই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল আপাতত তাদের জন্য বড় ভরসা। চরাঞ্চলে এই সেবায় তারা অত্যন্ত খুশি হলেও একটিই দাবি–বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস নয়; বরং সারাবছরই যেন এই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল তাদের এলাকায় অবস্থান করে। তারা চান এটি বছরে ছয় মাস নয়, পুরো বছর ধরেই ভ্রাম্যমাণ এই হাসপাতাল চালু থাক।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা সুলতানা নীলা জানান, ‘হাসপাতালটি আমি পরিদর্শন করেছি, সেবার মান অত্যন্ত ভালো। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন রোগী এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন। চরের মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ম্যানেজার জিলফুল মুরাদ শানু বলেন, ‘যমুনা ও পদ্মা নদীর অববাহিকার প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’






