সংবাদদাতাঃ আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রতিপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি খাল বর্তমানে মারাত্মক পরিবেশদূষণের উৎসে পরিণত হয়েছে।
এলাকাসবাসী অভিযোগ করেছেন, খালের পাশে অবস্থিত একাধিক মুরগির খামার থেকে নিয়মিতভাবে মুরগির মল ও বর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ, জমেছে নোংরা পচা আবর্জনার স্তূপ এবং বিভিন্ন রোগজীবাণুর প্রজনন ক্ষেত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে খালের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। খালটি ভরাট হয়ে নর্দমার মতো রূপ নিয়েছে। এর ওপর মুরগির মল ফেলা হচ্ছে প্রকাশ্যে, যা পুরো এলাকার পরিবেশকে চরমভাবে দূষিত করছে। গরমের সময় খালপাড়ের বাড়িগুলোতে দুর্গন্ধ অসহ্য হয়ে ওঠে। আশপাশের বাসিন্দাদের মনে আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, ডেঙ্গুসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
রতিপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, খালের পাশে দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। নোংরা পানি সড়কের ওপর উঠে আসায় পথচারীরা নাক চেপে দ্রুত ওই এলাকা পার হতে বাধ্য হন।
খালের পানি নোংরা ও কালো হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজেও দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। কেউ খালের পানি আর জমিতে ব্যবহার করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ দূষণের বিষয়টি একাধিকবার ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মুরগির খামারের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা দ্রুত খাল পুনঃখনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং মুরগির খামারগুলোর বর্জ্য ফেলায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তারা বলেন, খালটি পরিষ্কার করা হলে শুধু পানি প্রবাহই স্বাভাবিক হবে না, বরং পুরো এলাকার পরিবেশও ফিরে পাবে ভারসাম্য। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে রতিপুরকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন রতিপুরের সাধারণ মানুষ।






